()
প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের ইতিহাস বলতে আমরা সাধারণত বেদান্ত, সাংখ্য, যোগ কিংবা বৌদ্ধ-জৈন দর্শনের কথা বুঝি। কিন্তু এই ইতিহাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দুঃসাহসী ও বিপ্লবী চিন্তাধারার নাম—চার্বাক দর্শন। এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সুসংহত নাস্তিক্যবাদী, বস্তুবাদী ও জড়বাদী দর্শন, যা বেদের অভ্রান্ততা, ঈশ্বরের অস্তিত্ব, আত্মা, পরকাল, কর্মফল ও মোক্ষের মতো তৎকালীন সমাজের গভীরে প্রোথিত ধারণাগুলোকে একেবারে অস্বীকার করেছিল। চার্বাক দর্শনের মূল সূত্রগুলো রচিত হয়েছিল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে, এবং এটি ১২শ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতের দার্শনিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যায়।
চার্বাকরা কোনো প্রকার অলৌকিকতা বা প্রত্যাদেশে বিশ্বাস করতেন না। তাদের কাছে একমাত্র বাস্তবতা হলো এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগৎ। তারা বলতেন, "যতদিন বাঁচো, সুখে বাঁচো। ঋণ করে হলেও ঘি খাও। কারণ দেহ একবার পুড়ে গেলে তা আর ফিরে আসে না।" এই সহজ-সরল কিন্তু বৈপ্লবিক বক্তব্যই যুগে যুগে ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজের রোষানলে পড়েছিল। তাই তো চার্বাকদের দর্শনকে ধ্বংস করা হয়েছে, তাদের বই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং তাদের নামে রটানো হয়েছে কুৎসা। কিন্তু তবুও, সত্যের সন্ধানী এই দর্শন ইতিহাসের পাতা থেকে একেবারে মুছে যায়নি। আসুন, প্রাচীন ভারতের সেই বিস্মৃত বিপ্লবীদের গল্প শুনি।
চার্বাক নামের রহস্য: কে ছিলেন এই বিপ্লবী?
"চার্বাক" নামটি নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে। সংস্কৃত "চর্ব" ধাতু থেকে এই নামটি এসেছে বলে অনেকে মনে করেন, যার অর্থ "চিবানো"। যারা জীবনের রস আস্বাদন করে, খাওয়া-দাওয়া করে জীবনকে উপভোগ করে, তাদের উদ্দেশ করেই হয়তো এই নাম দেওয়া হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, "চার্বাক" নামে এক দার্শনিক ছিলেন, যিনি বৃহস্পতির শিষ্য ছিলেন এবং তিনিই এই মতবাদ প্রচার করেছিলেন। আরেকটি মত অনুসারে, "চার্বাক" অর্থ "মিষ্টভাষী"—যার কথা শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু যুক্তি দিয়ে তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির ভিত নাড়িয়ে দেন।
যাই হোক, চার্বাক দর্শনের অপর নাম লোকায়ত দর্শন। "লোকায়ত" শব্দটির অর্থ হলো "জনসাধারণের দর্শন" বা "এই লোকের (জগতের) দর্শন"। অর্থাৎ, চার্বাকরা শুধু এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতকেই সত্য বলে মানতেন, কোনো অলৌকিক লোক বা পরকালের অস্তিত্ব স্বীকার করতেন না।
এই দর্শনের প্রবর্তক হিসেবে সাধারণভাবে গুরু বৃহস্পতি-কে মনে করা হয়। তিনি রচনা করেছিলেন বার্হস্পত্য সূত্র নামে একটি গ্রন্থ, যা চার্বাক দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই মূল গ্রন্থটি আজ আর পৃথিবীতে নেই। পরবর্তীকালে ব্রাহ্মণ্যবাদী ও বৌদ্ধ-জৈন দার্শনিকদের লেখা খণ্ডনমূলক গ্রন্থ থেকেই আমরা চার্বাক দর্শনের মূল বক্তব্য জানতে পারি। অর্থাৎ, চার্বাকদের কথা আমরা শুনতে পাই তাদের চিরশত্রুদের মুখ থেকে! এতেও বোঝা যায়, এই দর্শন তৎকালীন সমাজে কতটা প্রভাবশালী ছিল যে, একে খণ্ডন করার জন্য এত কসরত করতে হয়েছে।
জ্ঞানতত্ত্ব: প্রত্যক্ষই একমাত্র প্রমাণ
চার্বাক দর্শনের সবচেয়ে মৌলিক ও বিপ্লবী দিকটি হলো তাদের জ্ঞানতত্ত্ব বা এপিস্টেমোলজি। ভারতীয় দর্শনের অন্যান্য শাখাগুলো সাধারণত চারটি প্রমাণকে জ্ঞানের উৎস হিসেবে স্বীকার করে: প্রত্যক্ষ (ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান), অনুমান (যুক্তি), উপমান (তুলনা) এবং শব্দ (বেদ বা আগম বাক্য)। কিন্তু চার্বাকরা বলেছিলেন, প্রত্যক্ষই একমাত্র বৈধ প্রমাণ। যা ইন্দ্রিয় দিয়ে দেখা, শোনা, স্পর্শ করা যায় না, তার অস্তিত্ব নেই।
চার্বাকরা অনুমানকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, অনুমান অনেক সময় ভুল হয়। যেমন, দূর থেকে ধোঁয়া দেখে আমরা অনুমান করি সেখানে আগুন আছে, কিন্তু ধোঁয়া যদি কুয়াশা হয়, তাহলে অনুমান মিথ্যা প্রমাণিত হয়। অনুমান নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের উৎস হতে পারে না, যদি না তা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। আর শব্দ প্রমাণ বা বেদবাক্য তো তাদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ছিল, কারণ বেদ রচিত হয়েছে পুরোহিতদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য।
চার্বাকদের এই কঠোর ইন্দ্রিয়বাদী মনোভাবকে আধুনিক বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতাবাদ ও প্রত্যক্ষবাদী দর্শনের অগ্রদূত বলা যায়। তারা বিশ্বাস করতেন, কোনো কিছু সত্য কি না, তা জানার একমাত্র উপায় হলো ইন্দ্রিয়ের কাছে তার প্রমাণ চাওয়া।
()
অধিবিদ্যা: চার ভূত আর দেহই আত্মা
চার্বাক দর্শনের অধিবিদ্যা বা মেটাফিজিক্স ছিল সম্পূর্ণ বস্তুবাদী। তারা বলতেন, এই মহাবিশ্বের সবকিছুই তৈরি হয়েছে মাত্র চারটি মূল উপাদান দিয়ে—ক্ষিতি (মাটি), অপ (জল), তেজ (আগুন) ও মরুৎ (বায়ু)। পঞ্চম উপাদান আকাশ বা ইথারকে তারা স্বীকার করতেন না, কারণ তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। এই চারটি ভূতের বিভিন্ন অনুপাতে মিশ্রণেই সৃষ্টি হয়েছে আমাদের দেহ, ইন্দ্রিয় এবং সমগ্র জগৎ।
কিন্তু আত্মা? ঈশ্বর? পরকাল? চার্বাকরা এগুলোকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন। তাদের মতে, দেহই আত্মা। চৈতন্য বা consciousness হলো দেহেরই একটি গুণ, ঠিক যেমন খামিরের সঙ্গে বার্লি বা আখের রস মিশিয়ে রেখে দিলে তাতে মাদকতা বা নেশার গুণ উৎপন্ন হয়। যখন দেহ বিনষ্ট হয়, তখন চৈতন্যও বিনষ্ট হয়। মৃত্যুর পর আর কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকে না। তাই পুনর্জন্ম, কর্মফল, স্বর্গ-নরক—এসবই ব্রাহ্মণদের বানানো গল্প, যা দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানও আজ একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, চেতনা বা মন হলো মস্তিষ্কের স্নায়বিক ক্রিয়াকলাপের ফল, এবং মস্তিষ্কের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে চেতনারও বিলোপ ঘটে। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে চার্বাকরা যে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, আধুনিক বিজ্ঞান সেখানে পৌঁছাতে পেরেছে মাত্র কয়েক দশক আগে!
নীতিশাস্ত্র: সুখই পরম কাম্য
চার্বাক দর্শনের নীতিশাস্ত্রকে অনেকে নিছক ইন্দ্রিয়পরায়ণতা বা হেডোনিজম বলে ভুল করেন। প্রকৃতপক্ষে, চার্বাকদের নীতিশাস্ত্র ছিল তাদের অধিবিদ্যার যৌক্তিক পরিণতি। যখন পরকাল নেই, আত্মা নেই, তখন এই জীবনের সুখই একমাত্র কাম্য। তারা বলতেন, সুখই জীবনের পরম লক্ষ্য এবং দুঃখই একমাত্র অকল্যাণ।
চার্বাকদের বিখ্যাত উপদেশ ছিল:
"যাবজ্জীবেত সুখং জীবেত, ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ।
ভস্মীভূতস্য দেহস্য পুনরাগমনং কুতঃ।।"
অর্থাৎ, "যতদিন বাঁচো, সুখে বাঁচো। ঋণ করে হলেও ঘি খাও। কারণ দেহ একবার পুড়ে গেলে তা আর ফিরে আসে না।"
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়। চার্বাকদের এই সুখবাদ ছিল চরমপন্থী ভোগবাদ নয়। দার্শনিক রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য দেখিয়েছেন যে, চার্বাকরা বরং "বিবেকী সুখবাদ" বা enlightened hedonism-এ বিশ্বাসী ছিলেন—যেখানে বর্তমানের সামান্য সুখের জন্য ভবিষ্যতের বৃহত্তর দুঃখকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না।
তারা ধর্ম, মোক্ষ, অপূর্ব—এসবকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কিন্তু অর্থ ও কাম—এই দুটি পুরুষার্থকেই জীবনের বৈধ লক্ষ্য বলে মনে করতেন। চার্বাকদের মতে, ধর্মের নামে মানুষকে কষ্ট দেওয়া, উপবাস রাখা, দেহকে কৃশ করা—এসব সম্পূর্ণ অর্থহীন। বরং মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করা এবং সমাজের মঙ্গল করা।
চার্বাকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও দর্শনের বিলুপ্তি
এত যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও বিপ্লবী একটি দর্শন কেন হারিয়ে গেল? এর প্রধান কারণ ছিল ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজের প্রচণ্ড বিরোধিতা। চার্বাকদের বক্তব্য ছিল হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত। যদি আত্মা না থাকে, পরকাল না থাকে, স্বর্গ-নরক না থাকে—তাহলে পুরোহিতদের অস্তিত্বের কী প্রয়োজন? এই ভয় থেকেই ব্রাহ্মণরা চার্বাক দর্শনকে ধ্বংস করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছিলেন।
মাধবাচার্যের "সর্বদর্শনসংগ্রহ" গ্রন্থে চার্বাক দর্শনকে প্রথম অধ্যায়ে স্থান দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেখানে তাদের মতবাদকে অত্যন্ত বিকৃত ও হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে সহজেই তা খণ্ডন করা যায়। এমনকি মহাভারতের শান্তিপর্বে একটি গল্প আছে যেখানে যুধিষ্ঠিরের রাজ্যাভিষেকের সময় চার্বাক নামে এক ব্রাহ্মণ (যিনি আসলে চার্বাক মতাবলম্বী ছিলেন) রাজাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন, এবং উপস্থিত ব্রাহ্মণরা তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিলেন।
এই রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিহিংসার মুখে চার্বাক দর্শনের মূল গ্রন্থগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। আনুমানিক ১২শ শতাব্দীর পর থেকে এই দর্শন সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু ইতিহাসের পরিহাস হলো, চার্বাকদের খণ্ডন করতে গিয়ে তাদের প্রতিপক্ষরা যে উদ্ধৃতিগুলো রেখে গেছেন, সেগুলোই আজ চার্বাক দর্শনের অস্তিত্বের প্রধান প্রমাণ।
(ব্যোমকেশ সমগ্র কিনুন এখান থেকে)
আধুনিক যুগে চার্বাকের প্রাসঙ্গিকতা
আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে চার্বাকরা যে বক্তব্য রেখেছিলেন, আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শন আজ সেখানেই ফিরে গেছে। তাদের কয়েকটি বৈপ্লবিক ধারণা ছিল:
ইন্দ্রিয়বাদ ও অভিজ্ঞতাবাদ: চার্বাকদের প্রত্যক্ষ প্রমাণের ওপর জোর দেওয়া ছিল আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূলমন্ত্র। ফ্রান্সিস বেকন থেকে শুরু করে ডেভিড হিউম পর্যন্ত পাশ্চাত্যের অভিজ্ঞতাবাদী দার্শনিকরা একই কথা বলেছেন।
দেহতত্ত্ববাদ: চার্বাকদের "দেহই আত্মা" তত্ত্ব আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চেতনা যে মস্তিষ্কেরই একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, তা আজ বিজ্ঞানসম্মত সত্য।
ধর্মের সমালোচনা: চার্বাকরা বলেছিলেন, ধর্ম হলো "সবল ও চতুরদের দ্বারা দুর্বলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি আবিষ্কার"। মার্কস, ফ্রয়েড, নীটশে—সবাই একই সুরে কথা বলেছেন।
যৌক্তিক সন্দেহবাদ: চার্বাকদের অনুমান ও বেদবাক্যের প্রতি সন্দেহ ছিল আধুনিক যুক্তিবাদী আন্দোলনের পূর্বসূরী।
এমনকি সম্রাট আকবরের দরবারেও চার্বাক দার্শনিকদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। আবুল ফজলের "আইন-ই-আকবরী" গ্রন্থে চার্বাকদের উল্লেখ আছে, যদিও তাদের "অজ্ঞ ও মূর্খ" হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
ইতিহাসের বিস্মৃত এক বিপ্লব
চার্বাক দর্শন ছিল প্রাচীন ভারতের এক দুঃসাহসী বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব। বেদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ এক সমাজে দাঁড়িয়ে তারা বলেছিলেন, "তোমাদের ঈশ্বর নেই, আত্মা নেই, পরকাল নেই। যা আছে, তা শুধু এই পৃথিবী, এই দেহ, এই জীবন। একে অর্থবহ করে তোলাই তোমাদের একমাত্র কর্তব্য।"
এই দর্শনকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, তাদের নামে কলঙ্ক লেপন করা হয়েছে, তাদের গ্রন্থ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সত্যকে চিরকাল চাপা দেওয়া যায় না। আজকের যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ চার্বাক দর্শনের মধ্যেই খুঁজে পায় প্রাচীন ভারতের সেই হারানো উত্তরাধিকার, যা আমাদের শেখায়—সবকিছু প্রশ্ন করতে, অন্ধবিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করতে, এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ভালোবাসতে। এই কারণেই চার্বাকরা শুধু প্রাচীন ভারতের নন, তাঁরা সমগ্র মানব সভ্যতারই সম্পদ।
()
