কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি

    ভাষার বিবর্তন (পর্ব-০৩): লিখন পদ্ধতি

    আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগের কথা। মেসোপটেমিয়ার উর্বর জমিতে ফসল ফলিয়ে সুমেরীয়রা যখন প্রথম নগর গড়ে তুলছিল, তখনই তাদের সামনে এসে দাঁড়াল এক নতুন চ্যালেঞ্জ—বাণিজ্যের হিসাব রাখা। মন্দিরের গুদামে কত বস্তা গম জমা হলো, কত মাথা গরু বিনিময় হলো—এসব মনে রাখা ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠছিল। তখনই তাঁরা আবিষ্কার করলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক প্রযুক্তি: লিখন পদ্ধতি

    এই আবিষ্কার মানব সভ্যতার গতিপথ চিরতরে বদলে দিয়েছিল। মৌখিক ঐতিহ্য থেকে লিখিত ইতিহাসে উত্তরণ ছিল এক নীরব বিপ্লব—যে বিপ্লবের হাত ধরেই জন্ম নিয়েছিল সাহিত্য, আইন, বিজ্ঞান ও দর্শন। আর এই বিপ্লবের পুরোভাগে ছিল দুই মহান সভ্যতা: সুমের ও মিশর। আসুন, ফিরে যাই সেই বিস্ময়কর সময়ে—যখন মানুষ প্রথম পাথর আর মাটির বুকে এঁকেছিল ভাষার রেখা।

    ভাষার বিবর্তন - লিখন পদ্ধতি

    লিপির জন্ম: কেন লিখতে শিখল মানুষ?

    প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শনগুলোর দিকে তাকালে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়—লেখার জন্ম হয়েছিল কাব্য বা দর্শনের প্রয়োজনে নয়, বরং এসেছিল একান্তই বাস্তব প্রয়োজনে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দে মেসোপটেমিয়ার নগর-রাষ্ট্রগুলোতে বাণিজ্য ও কৃষির প্রসারের সাথে সাথে জটিল হয়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক লেনদেন। মন্দির ও রাজপ্রাসাদের কর্মকর্তারা পণ্যের হিসাব রাখতে প্রথমে ব্যবহার করতেন ছোট ছোট মাটির টোকেন বা প্রতীক। ধীরে ধীরে এই টোকেনগুলোর ছাপ মাটির ফলকে বসিয়ে তৈরি করা হয় ‘প্রতীকী চিহ্ন’, যা থেকেই জন্ম নেয় প্রকৃত লিখন পদ্ধতি।

    ঠিক একই সময়ে নীল নদের তীরেও প্রায় একই ধরনের প্রয়োজন থেকে লেখার উদ্ভব ঘটেছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সুমেরীয়রা এই পথে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন—ভাষাবিদদের মতে, কিউনিফর্ম লিপি মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিকের চেয়েও পুরনো। খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ থেকে ৩২০০ সালের মধ্যেই সুমেরীয়রা একটি পূর্ণাঙ্গ লিখন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল।

    কিউনিফর্ম: মাটির বুকে খোদাই করা প্রথম ভাষা

    ‘কিউনিফর্ম’ শব্দটি এসেছে লাতিন ‘কিউনিয়াস’ থেকে, যার অর্থ ‘কীলক’ বা ‘গোঁজ’। নামটিই বলে দেয় এই লিপির চরিত্র—এটি মূলত কীলক-আকৃতির বিভিন্ন চিহ্নের সমাহার। সুমেরীয়রা ছিল এই লিপির আদি আবিষ্কারক। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০-২৫০০ অব্দের দিকে সুমেরীয়রা তাদের পূর্ববর্তী প্রত্ন-লিখন পদ্ধতি থেকে ক্রমশ এই কিউনিফর্ম লিপির বিকাশ ঘটায়।

    লেখার উপকরণ ও কৌশল

    কিউনিফর্ম লেখার জন্য সুমেরীয়রা ব্যবহার করতেন নরম মাটির ফলক বা ট্যাবলেট এবং ‘স্টাইলাস’ নামে এক ধরনের সরু, তীক্ষ্ণ খাগড়ার কলম। স্টাইলাস দিয়ে নরম মাটির ওপর চাপ দিয়ে কীলক-আকৃতির চিহ্ন বসানো হতো। এরপর সেই মাটির ফলক রোদে শুকিয়ে বা আগুনে পুড়িয়ে স্থায়ী করা হতো। এই পদ্ধতি এতটাই কার্যকর ছিল যে, হাজার হাজার বছর পরেও অসংখ্য কিউনিফর্ম ট্যাবলেট প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    মেসোপটেমিয়ায় লেখাপড়া শেখার জন্য বিশেষ বিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল, যেগুলো ‘এডুবা’ নামে পরিচিত ছিল, যার আক্ষরিক অর্থ ‘ট্যাবলেটগুলোর ঘর’। এই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে শত শত জটিল চিহ্ন মুখস্থ করত এবং নিখুঁতভাবে সেগুলো মাটির ফলকে খোদাই করার কৌশল আয়ত্ত করত।

    একটি লিপি, বহু ভাষা

    কিউনিফর্মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর অভিযোজন ক্ষমতা। এটি কোনো নির্দিষ্ট ভাষার জন্য আবদ্ধ ছিল না। প্রথমে সুমেরীয় ভাষা লেখার জন্য এটি ব্যবহৃত হলেও পরবর্তীতে আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসিরীয়, হিত্তীয়, এলামাইট এবং এমনকি প্রাচীন ফার্সির মতো বিভিন্ন ভাষা লেখার জন্যও এটি ব্যবহৃত হয়েছিল। কিউনিফর্ম মূলত একটি লগোগ্রাফিক লিপি ছিল, যার অর্থ প্রতিটি চিহ্ন একটি নির্দিষ্ট শব্দ বা ধারণাকে উপস্থাপন করত। তবে পরবর্তীতে এটি ধ্বনিনির্ভর (সিল্যাবিক) উপাদানও অন্তর্ভুক্ত করে, যা একে আরও বহুমুখী করে তোলে।

    খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে শুরু করে প্রথম খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে মেসোপটেমিয়া ও তার আশপাশের অঞ্চলে এই লিপির প্রচলন ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে এটি ছিল প্রাচীন নিকট প্রাচ্যের একমাত্র আন্তর্জাতিক লিখন মাধ্যম।

    হায়ারোগ্লিফিক্স: পাথরের বুকে পবিত্র চিত্র

    কিউনিফর্ম যখন মেসোপটেমিয়ায় বিকশিত হচ্ছিল, প্রায় একই সময়ে নীল নদের তীরে মিশরীয়রা গড়ে তুলছিল তাদের নিজস্ব এক অনন্য লিখন পদ্ধতি—হায়ারোগ্লিফিক্স। গ্রিক শব্দ ‘হায়ারোগ্লিফিকা’ থেকে এই নামটি এসেছে, যার অর্থ ‘পবিত্র খোদাইকৃত চিহ্ন’। গ্রিকরা যখন মিশর দখল করে, তখন তাদের ধারণা হয়েছিল যে এই লিপি কেবল পুরোহিতরাই ব্যবহার করতেন এবং এটি পবিত্র বিষয়ের জন্যই সংরক্ষিত ছিল।

    ছবির ভাষা

    হায়ারোগ্লিফিক্স ছিল মূলত একটি চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি। প্রতিটি চিহ্ন বা ‘হায়ারোগ্লিফ’ কোনো না কোনো বাস্তব বস্তু—যেমন পাখি, সিংহ, সাপ, হাত, চোখ, জল—এর চিত্রায়ন। কিন্তু এই লিপির জটিলতা ছিল অন্য জায়গায়: একেকটি হায়ারোগ্লিফ তিন রকমভাবে ব্যবহৃত হতে পারত—লোগোগ্রাম (সম্পূর্ণ শব্দ বোঝাতে), ফোনোগ্রাম (ধ্বনি বোঝাতে), এবং ডেটারমিনেটিভ (শব্দের অর্থ বা শ্রেণি নির্দেশ করতে)। এই ত্রিমুখী ব্যবহার হায়ারোগ্লিফিক্সকে একই সাথে নান্দনিক ও জটিল করে তুলেছিল।

    তিনটি লিপি, তিনটি জগৎ

    প্রাচীন মিশরে কেবল একটি নয়, বরং তিনটি ভিন্ন ভিন্ন লিপি সমান্তরালভাবে প্রচলিত ছিল:

    ১. হায়ারোগ্লিফিক: এটি ছিল সর্বাপেক্ষা জটিল ও নান্দনিক লিপি, যা কেবল মন্দিরের দেয়াল, সমাধি, মূর্তি ও গুরুত্বপূর্ণ স্মারকে খোদাই করা হতো।

    ২. হায়রাটিক: হায়ারোগ্লিফিকেরই সরলীকৃত রূপ, যা পুরোহিত ও লিপিকরেরা প্যাপিরাসে দ্রুত লেখার জন্য ব্যবহার করতেন। খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০ অব্দের দিকে এই লিপির উদ্ভব হয়।

    ৩. ডেমোটিক: এটি ছিল হায়ারোগ্লিফিক বিবর্তনের সর্বশেষ ও সবচেয়ে সরল রূপ, যা সাধারণ মানুষও দৈনন্দিন কাজে ও চিঠিপত্রে ব্যবহার করতে পারত।

    হায়ারোগ্লিফিক ছিল প্রায় ৭০০-৮০০টি মৌলিক চিহ্নের সমাহার, যা পরবর্তীতে আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। শুধু চিহ্নের সংখ্যাই নয়, এর লেখার দিকও ছিল বহুমুখী—ডান থেকে বামে, বাম থেকে ডানে, এমনকি ওপর থেকে নিচেও লেখা হতো। চিহ্নগুলোর মুখের দিক দেখে বোঝা যেত লেখাটি কোন দিক থেকে পড়তে হবে। এই নমনীয়তা হায়ারোগ্লিফিক্সকে এক অনন্য শৈল্পিক মাত্রা দিয়েছিল, যা পৃথিবীর আর কোনো লিপিতে দেখা যায় না।

    দুই লিপির তুলনা: কিউনিফর্ম ও হায়ারোগ্লিফিক্স

    যদিও কিউনিফর্ম ও হায়ারোগ্লিফিক্স প্রায় একই সময়ে বিকশিত হয়েছিল, তাদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে:

    বৈশিষ্ট্যকিউনিফর্মহায়ারোগ্লিফিক্স
    উৎপত্তিস্থল    মেসোপটেমিয়া (সুমের)        প্রাচীন মিশর
    লেখার মাধ্যম    নরম মাটির ফলক ও স্টাইলাস        পাথর ও প্যাপিরাস
    চিহ্নের প্রকৃতি    কীলক-আকৃতির বিমূর্ত চিহ্ন        চিত্রধর্মী বাস্তবানুগ চিহ্ন
    লেখার দিক    বাম থেকে ডানে (পরবর্তীতে)        ডান-বাম/বাম-ডান/ওপর-নিচ
    ব্যবহারকাল    ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব - ১০০ খ্রিস্টাব্দ        ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব - ৪০০ খ্রিস্টাব্দ
    পাঠোদ্ধারের চাবি    বেহিস্তুন শিলালিপি        রোসেটা প্রস্তরফলক
    মূল ব্যবহার    বাণিজ্যিক হিসাব, প্রশাসন        ধর্মীয় ও রাজকীয় ঘোষণা

    উভয় লিপিই প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং উভয়ই তাদের নিজ নিজ সভ্যতার সাহিত্য, আইন ও ইতিহাস সংরক্ষণের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল। সুমেরীয় সাহিত্য ও প্রাচীন মিশরীয় সাহিত্যকে একযোগে বিশ্বের প্রাচীনতম সাহিত্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

    রহস্যের পাঠোদ্ধার: যে দুই প্রতিভা ইতিহাসকে জাগালেন

    খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর পর থেকে কিউনিফর্ম ও হায়ারোগ্লিফিক্স উভয় লিপিই ধীরে ধীরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে এবং মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরোপীয় পর্যটকেরা মিশরের মন্দিরের গায়ে আর পারস্যের পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা এই রহস্যময় চিহ্ন দেখে বিস্মিত হতেন, কিন্তু কেউই সেগুলোর অর্থ উদ্ধার করতে পারতেন না। এরপর এলো এক বিস্ময়কর আবিষ্কারের পালা।

    রোসেটা প্রস্তরফলক ও জঁ-ফ্রঁসোয়া শঁপোলিওঁ

    ১৭৯৯ সালের জুলাই মাসে মিশরে নেপোলিয়নের অভিযানের সময় ফরাসি সেনা কর্মকর্তা পিয়ের ফ্রঁসোয়া জাভিয়ের বুশার রোসেটা (বর্তমান রাশিদ) শহরের কাছে একটি প্রাচীন দুর্গ খননের সময় আবিষ্কার করেন একটি কালো গ্র্যানোডাইয়োরাইট পাথরের ফলক। এই ফলকে একই বার্তা তিনটি ভিন্ন লিপিতে খোদাই করা ছিল: ওপরে মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক্স, মাঝে ডেমোটিক লিপি, এবং নিচে প্রাচীন গ্রিক ভাষায়। এই ফলকটি ছিল টলেমীয় রাজবংশের সময়ে (খ্রিস্টপূর্ব ১৯৬ অব্দ) জারি করা এক রাজকীয় ফরমান।

    গ্রিক অংশটি পড়তে অসুবিধা না থাকলেও হায়ারোগ্লিফিক্সের রহস্য ভেদ করতে লেগে গিয়েছিল আরও দুই দশকেরও বেশি সময়। ব্রিটিশ পণ্ডিত থমাস ইয়ং প্রথম কিছু চিহ্ন সঠিকভাবে চিহ্নিত করলেও চূড়ান্ত পাঠোদ্ধারটি করেছিলেন ফরাসি ভাষাবিদ জঁ-ফ্রঁসোয়া শঁপোলিওঁ। ১৮২২ সালে তিনি ঘোষণা করেন যে তিনি হায়ারোগ্লিফিক্সের সঙ্কেতমোচন করেছেন। তাঁর এই আবিষ্কার শুধু একটি লিপির পাঠোদ্ধার ছিল না; এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার ইতিহাসকে পুনরায় আবিষ্কার করার চাবিকাঠি। আধুনিক মিশরবিদ্যার গোড়াপত্তন হয়েছিল শঁপোলিওঁর এই কাজের মাধ্যমেই। দুঃখজনকভাবে, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ১৮৩২ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে শঁপোলিওঁর মৃত্যু হয়।

    বেহিস্তুন শিলালিপি ও স্যার হেনরি রলিনসন

    একইভাবে কিউনিফর্মের পাঠোদ্ধারও সম্ভব হয়েছিল এক ত্রিভাষিক শিলালিপির কারণে। ইরানের পশ্চিমে বেহিস্তুন নামক স্থানে একটি উঁচু চুনাপাথরের পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা আছে বিশাল এক শিলালিপি। এটি খোদাই করিয়েছিলেন পারস্যের সম্রাট প্রথম দারিয়ুস (রাজত্ব: ৫২২-৪৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। এই শিলালিপিতে একই বার্তা তিনটি ভিন্ন কিউনিফর্ম ভাষায় লেখা ছিল: প্রাচীন ফার্সি, এলামাইট, এবং ব্যাবিলনীয় (আক্কাদীয়)।

    ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা ও প্রাচ্যবিদ স্যার হেনরি রলিনসন ১৮৩৫ ও ১৮৪৩ সালে জীবন বাজি রেখে পাহাড়ের গায়ে ঝুলে এই শিলালিপির পাঠ উদ্ধার করেন। ১৮৪৭ সালের মধ্যে তিনি প্রাচীন ফার্সি কিউনিফর্মের সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার করে ফেলেন। বেহিস্তুন শিলালিপি ছিল কিউনিফর্মের জন্য ঠিক সেই কাজটিই, যা রোসেটা প্রস্তরফলক করেছিল হায়ারোগ্লিফিক্সের জন্য। রলিনসনের এই কাজ অ্যাসিরিয়াবিদ্যা নামে এক নতুন গবেষণা শাখার সূচনা করে এবং পরবর্তীতে মেসোপটেমিয়া থেকে উদ্ধার হওয়া লাখ লাখ কিউনিফর্ম ট্যাবলেটের পাঠোদ্ধারের পথ খুলে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আসিরীয় সম্রাট আসুরবানিপালের গ্রন্থাগার থেকে প্রায় ত্রিশ হাজারের মতো কিউনিফর্ম ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়েছে রলিনসনের আবিষ্কারের জন্যই।

    ভাষাতত্ত্বের চিরন্তন স্তম্ভ

    পাঁচ হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ার কোনো এক হিসাবরক্ষক যখন নরম মাটির ওপর প্রথম কীলকের ছাপ বসিয়েছিলেন, কিংবা নীল নদের তীরের কোনো শিল্পী যখন পাথরে পাখির ছবি এঁকেছিলেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানতেন না যে তাঁরা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিচ্ছেন। কিন্তু তাই ঘটেছিল।

    কিউনিফর্ম ও হায়ারোগ্লিফিক্সের যুগলবন্দীতে মানব সভ্যতা প্রথমবারের মতো তার চিন্তা, অনুভূতি, আইন, সাহিত্য ও ইতিহাসকে পাথর আর মাটির বুকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে শিখেছিল। এই দুই লিপির মাধ্যমেই আমরা জানতে পেরেছি গিলগামেশের বীরত্বগাথা, হাম্মুরাবির আইনসংহিতা, ফারাওদের জীবনকাহিনি এবং প্রাচীন বিশ্বের অসংখ্য হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার কথা। লিপির বিপ্লব হয়তো নীরবে ঘটেছিল, কিন্তু তার প্রতিধ্বনি আজও আমাদের প্রতিটি কথায়, প্রতিটি লেখায় ধ্বনিত হয়ে চলেছে।

    আরও পড়ুন
    ভাষার বিবর্তন (পর্ব-০২): প্রস্তর যুগের প্রতিধ্বনিভাষার বিবর্তন (পর্ব-০১): ইশারা থেকে শব্দ

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    নবীনতর পূর্বতন

    نموذج الاتصال