কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি

    প্রাচীন মিশরের মহাকাব্য (পর্ব-০৫): রাণী হাতশেপসুত

    প্রাচীন মিশরের কথা মনে এলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুউচ্চ পিরামিড, রহস্যময় স্ফিংক্স আর স্বর্ণের মুকুট পরা এক শক্তিশালী পুরুষ ফারাওয়ের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে থাকা এক সত্য হলো, এই পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতাতেও কিছু নারী ফারাও হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছিলেন এবং পুরুষের মতোই দাপটের সাথে রাজ্য শাসন করে গেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ও আলোচিত নাম রাণী হাতশেপসুত। তাকে বলা হতো ‘মহৎ নারীদের প্রধান’ (Foremost of Noble Ladies)

    রাণী হাতশেপসুত

    প্রায় ৩৫০০ বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ১৫ শতকে, হাতশেপসুত মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাজত্ব করা নারী ফারাও হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি কেবল সিংহাসন দখল করেই ক্ষান্ত হননি; তার শাসনামলে মিশর সমৃদ্ধির এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। তিনি পুরুষের পোশাক পরে, নকল দাড়ি লাগিয়ে রাজদরবারে বসতেন এবং নিজেকে ফারাওদের সকল ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে উপস্থাপন করতেন। তার গল্প একাধারে সাহস, বুদ্ধিমত্তা, রাজনৈতিক কৌশল এবং ঐতিহাসিক রহস্যের এক অনন্য সমাহার।

    ১: রাজকুমারী থেকে রিজেন্ট – সিংহাসনের পথে যাত্রা

    ১.১ জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি

    হাতশেপসুত ছিলেন মিশরের অষ্টাদশ রাজবংশের রাজা প্রথম থুতমোস এবং তার প্রধান স্ত্রী রাণী আহমোসের কন্যা। তিনি আনুমানিক ১৫০৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ফারাওয়ের একমাত্র বিশুদ্ধ রাজকীয় সন্তান হওয়ায়, ঐতিহ্য অনুযায়ী তারই পরবর্তী ফারাও হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রাচীন মিশরের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক হওয়ায় একজন নারীর পক্ষে সরাসরি সিংহাসনে বসা ছিল প্রায় অসম্ভব।

    প্রথম থুতমোসের মৃত্যুর পর, হাতশেপসুতের সৎ ভাই দ্বিতীয় থুতমোস সিংহাসনে বসেন। প্রাচীন মিশরের রাজপরিবারে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য হাতশেপসুতের সাথে তার সৎ ভাই দ্বিতীয় থুতমোসের বিয়ে হয়। এই সময়ে তিনি তার স্বামীর পাশাপাশি থেকে রাজ্য শাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এমনকি কথিত আছে, দ্বিতীয় থুতমোসের হাত দিয়ে রাজ্য শাসন করতেন মূলত হাতশেপসুত নিজেই

    ১.২ রিজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ

    দ্বিতীয় থুতমোসের অকাল মৃত্যুর পর রাজপরিবারে আবার সংকট দেখা দেয়। তার একমাত্র পুত্র ও উত্তরাধিকারী তৃতীয় থুতমোস তখন মাত্র ৩ বছর বয়সী শিশু। স্বাভাবিকভাবেই এত ছোট বয়সে রাজ্য শাসন তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে, শিশু ফারাওয়ের হয়ে রিজেন্ট (অভিভাবক শাসক) হিসেবে খ্রিস্টপূর্ব ১৪৭৮ অব্দে মিশরের সিংহাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন হাতশেপসুত

    প্রথমে রিজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, হাতশেপসুতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল আরও বেশি কিছু অর্জনের। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেনই শাসক হওয়ার জন্য, এবং তিনিই ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য শাসক। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি রিজেন্টের ভূমিকা অতিক্রম করে পূর্ণাঙ্গ ফারাও হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা শুরু করেন।

    ২: পুরুষের বেশে ফারাও – এক যুগান্তকারী রাজনৈতিক কৌশল

    ২.১ ধর্মীয় বৈধতা অর্জন

    হাতশেপসুত বুঝতে পেরেছিলেন যে শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা যথেষ্ট নয়; তাকে ধর্মীয় বৈধতাও অর্জন করতে হবে। মিশরীয় পুরাণ অনুযায়ী, রাজা প্রথম থুতমোস ছিলেন মহাদেবতা আমুনের সাক্ষাৎ বংশধর। হাতশেপসুত নিজেকে শুধু প্রথম থুতমোসের কন্যা হিসেবেই নয়, বরং সরাসরি দেবতা আমুনের কন্যা হিসেবে উপস্থাপন করতে শুরু করেন।

    তিনি তার জন্মের এক পৌরাণিক কাহিনী প্রচার করেন, যেখানে বলা হয় দেবতা আমুন নিজে তার মা রাণী আহমোসের কাছে এসেছিলেন এবং হাতশেপসুতের জন্ম হয়। এই কাহিনী পরবর্তীতে তার বিখ্যাত মন্দিরের দেয়ালে চমৎকারভাবে খোদাই করা হয়েছিল। এই পৌরাণিক গল্প তাকে ফারাও হিসেবে বৈধতা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ২.২ পুরুষের পোশাকে রাজত্ব

    কিন্তু একজন নারী হয়েও মিশরীয়দের মনে রাজার স্থান পাওয়া সহজ ছিল না। তৎকালীন মিশরীয় সমাজ কোনো নারীকে রাজা হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। অসাধারণ বুদ্ধিমতী হাতশেপসুত এই সমস্যারও এক অভিনব সমাধান করলেন। তিনি পুরুষের বেশে রাজ্য শাসন করতে শুরু করলেন।

    গুরুত্বপূর্ণ সভা ও রাজকীয় অনুষ্ঠানগুলোতে তিনি পুরুষদের পোশাক পরতেন এবং ফারাওদের প্রতীকী নকল দাড়ি ব্যবহার করতেন। তার নির্মিত ভাস্কর্য ও দেয়ালচিত্রে তাকে পুরুষ ফারাওদের মতোই সুগঠিত পেশী, ছোট কটি-বস্ত্র এবং নকল দাড়ি সহকারে চিত্রিত করা হয়েছে। তবে তিনি সবসময় নিশ্চিত করতেন যে শিল্পকর্মে তার নারী পরিচয়ের কোনো না কোনো ইঙ্গিত থাকবে, যেমন “রে-এর কন্যা” বা “তার মহিমা, স্বয়ং” উল্লেখ থাকত

    ধীরে ধীরে এই কৌশলের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠলেন এবং প্রায় ২২ বছর ধরে সফলভাবে রাজত্ব করলেন। আধুনিক মিশরতত্ত্ববিদরা তাকে মিশরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ফারাওদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন—তা সে পুরুষই হোক বা নারী

    ৩: যুদ্ধ নয়, সমৃদ্ধিই ছিল মূলমন্ত্র

    ৩.১ শান্তিপূর্ণ সম্প্রসারণ ও স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ

    হাতশেপসুতের শাসননীতি ছিল তার সমসাময়িক অন্যান্য ফারাওদের চেয়ে ভিন্ন। তিনি নতুন নতুন রাজ্য জয়ের পরিবর্তে নিজ রাজ্যকে অভ্যন্তরীণভাবে সমৃদ্ধ করার দিকে মনোযোগ দেন। তার রাজত্বকালে মিশরে এক স্থাপত্যের স্বর্ণযুগের সূচনা হয়। তিনি অসংখ্য নতুন মন্দির, ভাস্কর্য এবং ওবেলিস্ক (সুউচ্চ স্তম্ভ) নির্মাণ করেছিলেন।

    তার শাসনামলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য কীর্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    • কের্নাক মন্দির কমপ্লেক্স: লাক্সারে নীলনদের তীরে অবস্থিত এই বিশাল মন্দির কমপ্লেক্সে তিনি সুউচ্চ ওবেলিস্ক স্থাপন করেন। সেই সময়ে পুরো মিশরের সবচেয়ে উঁচু ওবেলিস্ক ছিল এগুলোই। মন্দিরের প্রবেশদ্বারের একজোড়া ওবেলিস্কের একটি এখনও অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে। তিনি এখানে ২০০ ফুট উঁচু ওবেলিস্ক যুক্ত করেছিলেন

    • মা’আত মন্দির: কর্নাক কমপ্লেক্সের এই মন্দিরের দেয়ালে হাতশেপসুত এবং তৃতীয় থুতমোসের মূর্তি অত্যন্ত চমৎকারভাবে খোদাই করা আছে

    • দের-আল-বাহরি মন্দির: হাতশেপসুতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থাপনা হলো দের-আল-বাহরি উপত্যকায় অবস্থিত তার মর্গ মন্দির। এর আসল নামের অর্থ “পবিত্রের মধ্যে পবিত্র স্থান”। তিনটি কৃত্রিম সোপান ক্রমশ উপরের দিকে উঠে গেছে পাহাড়ের খাড়া গা বেয়ে। এই স্থাপত্য এতটাই নান্দনিক যে হাজার বছর পরের গ্রিক স্থাপত্যকেও তা হার মানায়। এটিকে পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য স্থাপত্য হিসেবে গণ্য করা হয়

    এই স্থাপনাগুলোতে দক্ষ কারিগররা লাল গ্রানাইট পাথরে নানা ছবি ও চিহ্ন খোদাই করেছিলেন, যা প্রাচীন মিশরীয় শিল্পকলার উৎকর্ষতার সাক্ষ্য বহন করে

    ৩.২ পান্ট অভিযান: বাণিজ্যের এক ঐতিহাসিক সাফল্য

    হাতশেপসুতের শাসনামলের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্য ছিল পান্ট অভিযান। প্রায় ২০০ বছর আগে ভেঙে যাওয়া পান্টের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে তিনি অষ্টাদশ রাজবংশের সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেন। পান্ট ছিল বর্তমান ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া এবং সোমালিয়ার কাছাকাছি লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি সমৃদ্ধ রাজ্য

    তার রাজত্বের নবম বছরে পরিচালিত এই অভিযানের বর্ণনা দের-আল-বাহরি মন্দিরের দেয়ালে বিস্তারিতভাবে খোদাই করা আছে। এই অভিযানে পান্ট থেকে লোবান (ফ্রাঙ্কিনসেন্স), গন্ধরস (মির), সোনা, আবলুস কাঠ, হাতির দাঁত এবং নানা দুর্লভ পণ্য মিশরে নিয়ে আসা হয়

    এই অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল ৩১টি জীবন্ত গন্ধরসের গাছ মিশরে নিয়ে আসা এবং সেগুলো রোপণ করা। বিদেশ থেকে গাছ এনে নিজ দেশে রোপণের প্রচেষ্টার এটাই ইতিহাসের প্রথম রেকর্ড। আর লোবান গুঁড়ো করে হাতশেপসুত তৈরি করতেন চোখের কাজল। এই সফল বাণিজ্য অভিযানের ফলে মিশরের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয় এবং হাতশেপসুত বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো ফারাওয়ের চেয়ে সফল প্রমাণিত হন

    ৪: সেনেনমুত – বিশ্বস্ত সহচর নাকি প্রেমিক?

    ৪.১ প্রধান স্থপতি ও উপদেষ্টা

    হাতশেপসুতের শাসনামলে সেনেনমুত নামে এক ব্যক্তি অসামান্য প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তিনি ছিলেন রাণীর প্রধান উপদেষ্টা, রাজকীয় স্থপতি এবং তার কন্যা নেফেরুরের শিক্ষক। দের-আল-বাহরির সেই অপূর্ব মন্দিরটির নকশা প্রণয়নকারী হিসেবে সেনেনমুতের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

    ৪.২ সম্পর্কের রহস্য

    সেনেনমুতের অস্বাভাবিক উত্থান এবং রাণীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাসবিদদের মধ্যে কৌতূহল ও বিতর্ক চলছে। অনেক মিশরতত্ত্ববিদ মনে করেন, সেনেনমুত হাতশেপসুতের প্রেমিকও ছিলেন। এই তত্ত্বের পক্ষে কিছু তথ্যও রয়েছে: হাতশেপসুত সেনেনমুতকে অসাধারণ সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছিলেন; তিনি রাজকীয় সমাধি উপত্যকায় সেনেনমুতের জন্য একটি সমাধি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন; এমনকি তার নাম হাতশেপসুতের নামের সাথে জুড়ে খোদাই করা হয়েছিল।

    তবে এই সম্পর্ক যে প্রকৃতিরই হোক না কেন, এটা স্পষ্ট যে সেনেনমুত হাতশেপসুতের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন এবং তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্থাপত্য প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

    ৫: রহস্যজনক মৃত্যু ও উত্তরাধিকার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র

    ৫.১ মৃত্যুর রহস্য

    খ্রিস্টপূর্ব ১৪৫৮ অব্দে প্রায় ৫০ বছর বয়সে হাতশেপসুতের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। কিছু গবেষক মনে করেন তিনি ডায়াবেটিস বা হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অন্য একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিষাক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণেও তার মৃত্যু হতে পারে।

    ৫.২ ইতিহাস থেকে নাম মুছে ফেলার প্রচেষ্টা

    হাতশেপসুতের মৃত্যুর পর, তৃতীয় থুতমোস পূর্ণ ক্ষমতায় সিংহাসনে বসেন। এরপর যা ঘটেছিল, তা ইতিহাসের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়। তৃতীয় থুতমোস তার বিমাতার স্মৃতি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার জন্য এক পরিকল্পিত অভিযান চালান। হাতশেপসুতের অসংখ্য মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়, মন্দিরের দেয়াল থেকে তার নাম ও ছবি মুছে ফেলা হয়, এবং তার তৈরি অনেক স্থাপনা ধ্বংস করে তার জায়গায় নিজের নাম খোদাই করা হয়।

    প্রচলিত ইতিহাসবিদদের মতে, তৃতীয় থুতমোস হাতশেপসুতের প্রতি হিংসাপরায়ণ ছিলেন, কারণ তিনি দীর্ঘ ২২ বছর তার জায়গায় বসে রাজ্য শাসন করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর গবেষক জুন ওয়াং-এর মতে, এই ধ্বংসযজ্ঞ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, বরং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে সংঘটিত হয়েছিল।

    ৬: হারিয়ে যাওয়া মমির রহস্য উন্মোচন

    ৬.১ কেভি২০ এবং কেভি৬০ এর রহস্য

    হাতশেপসুতের সমাধি হিসেবে কেভি২০ (রাজাদের উপত্যকায় অবস্থিত) নির্মিত হয়েছিল, যা সম্ভবত উপত্যকাটির প্রথম রাজকীয় সমাধি। কিন্তু তার মমি সেখানে পাওয়া যায়নি। ১৯০৩ সালে হাওয়ার্ড কার্টার (যিনি পরবর্তীতে তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করেছিলেন) কেভি৬০ নামে একটি ছোট, অলংকরণহীন সমাধিতে দুটি নারীর মমি আবিষ্কার করেন।

    ৬.২ ডিএনএ পরীক্ষার চমকপ্রদ ফলাফল

    ২০০৭ সালে মিশরীয় প্রত্নতত্ত্ববিদ জাহি হাওয়াসের নেতৃত্বে একদল গবেষক আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি চমকপ্রদ আবিষ্কার করেন। তারা একটি মমির পেলভিক হাড় ও ফিমার থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা হাতশেপসুতের দাদি আমোস নেফ্রেটেরির মমির ডিএনএর সাথে তুলনা করেন। ফলাফলে প্রমাণিত হয় যে কেভি৬০-তে পাওয়া মমিটি সত্যিই হাতশেপসুতের। পাশাপাশি, একটি ক্যানোপিক জারে সংরক্ষিত একটি দাঁত মমিটির চোয়ালের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়, যা এই সনাক্তকরণকে আরও নিশ্চিত করে।

    এক কালজয়ী নারীর অমর কীর্তি

    রাণী হাতশেপসুতের জীবন একাধারে সাহস, বুদ্ধিমত্তা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ট্র্যাজেডির এক অসাধারণ সমন্বয়। তিনি এমন এক যুগে মিশরের ফারাও হয়েছিলেন, যখন নারীরা প্রকাশ্য ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকতে পারতেন না। অথচ তিনি কেবল সিংহাসন দখলই করেননি, বরং মিশরকে সমৃদ্ধির এক নতুন শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার তৈরি স্থাপত্যগুলো আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর পান্ট অভিযানের গল্প জানান দেয় তার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা।

    হাতশেপসুতের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এই: প্রকৃত ক্ষমতা লিঙ্গ বা প্রচলিত নিয়মের উপর নির্ভরশীল নয়; তা নির্ভর করে সাহস, প্রজ্ঞা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির উপর। 

    আরও পড়ুন -
    প্রাচীন মিশরের মহাকাব্য (পর্ব-০৪): মমি রহস্য
    প্রাচীন মিশরের মহাকাব্য (পর্ব-০৩): ফারাও খুফু থেকে তুতেনখামুন
    প্রাচীন মিশরের মহাকাব্য (পর্ব-০২): পিরামিড
    প্রাচীন মিশরের মহাকাব্য (পর্ব-০১): সূচনা


    #হাতশেপসুত #মিশর #ফারাও #প্রাচীনমিশর #ইতিহাস #Hatshepsut #AncientEgypt #FemalePharaoh #WomenInHistory #মিশরেরইতিহাস #পান্টঅভিযান #স্থাপত্য #প্রত্নতত্ত্ব #রহস্য #অনুপ্রেরণা

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    নবীনতর পূর্বতন

    نموذج الاتصال